বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
আল্লাহ ভালোবাসেন যাদের, অপছন্দ করেন যাদের—আপনি কোন শ্রেণির?
অনলাইন ডেস্ক
নির্বাচিত গুণাবলি আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যম—অন্যদিকে কিছু দোষ রয়েছে, যেগুলো আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নিজেই স্পষ্টভাবে এ দুটি শ্রেণির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। নিচে কোরআনের আয়াতের আলোকে সংকলিত হলো—
১. নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎ ও কল্যাণকর কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভালোবাসেন। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৫)
২. যারা তাওবা করে এবং আত্মা ও দেহ উভয়ে পবিত্র থাকে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২২২)
৩. আল্লাহ মুত্তাকি, অর্থাৎ যাঁরা আল্লাহভীতিসম্পন্ন, তাঁদের ভালোবাসেন। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৭৬)
৪. মহৎ ও উদার কর্মে যারা ব্রতী, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
৫. যাঁরা ধৈর্য ধারণ করেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি স্নেহ প্রকাশ করেন। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৬)
৬. উত্তম ও সদ্ব্যবহারকারীদের আল্লাহ ভালোবাসেন। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৮)
৭. যাঁরা আল্লাহর ওপর ভরসা করেন, তিনি তাঁদের ভালোবাসেন। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)
৮. সদাচরণে অভ্যস্তদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা রয়েছে। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১৩)
৯. আল্লাহ ন্যায়ের ভিত্তিতে চলা মানুষদের ভালোবাসেন। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৪২)
১০. সহানুভূতিশীল ও দয়ালু মানুষ আল্লাহর প্রিয়। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৯৩)
১১. আল্লাহ খোদাভীরুদের ভালোবাসেন। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৪)
১২. যাঁরা সবসময় পরহেজগার থাকেন, আল্লাহ তাঁদের ভালোবাসেন। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭)
১৩. আত্মশুদ্ধি ও সমাজ সংস্কারে যারা ভূমিকা রাখে, আল্লাহ তাঁদের ভালোবাসেন। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১০৮)
১৪. ইনসাফপন্থী বা ন্যায়ের ধারক ব্যক্তিদের আল্লাহ ভালোবাসেন। (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৯)
১৫. ন্যায়নিষ্ঠদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা রয়েছে। (সুরা : মুমতাহিনা, আয়াত : ৮)
১৬. যারা আল্লাহর পথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। (সুরা : সফ, আয়াত : ৪)
১. সীমালঙ্ঘনকারীদের আল্লাহ অপছন্দ করেন। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯০)
২. যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়ায়, আল্লাহ তাদের অপছন্দ করেন। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২০৫)
৩. অকৃতজ্ঞ পাপীদের আল্লাহ ভালোবাসেন না। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭৬)
৪. কাফিরদের প্রতি আল্লাহর বিরূপতা রয়েছে। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩২)
৫. জালিমদের আল্লাহ ঘৃণা করেন। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৫৭)
৬. অবিচারকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন না। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪০)
৭. অহংকারী ও গর্বিতদের প্রতি আল্লাহর অনাস্থা রয়েছে। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)
৮. যারা খেয়ানত করে ও পাপে লিপ্ত থাকে, আল্লাহ তাদের অপছন্দ করেন। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৭)
৯. সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের আল্লাহ ঘৃণা করেন। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৬৪)
১০. অতিরঞ্জনকারী ও বাড়াবাড়ি করা মানুষদের আল্লাহ অপছন্দ করেন। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮৭)
১১. আত্মসাৎকারীদের প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টি রয়েছে। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫৮)
১২. বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞদের আল্লাহ অপছন্দ করেন। (সুরা : হজ, আয়াত : ৩৪)
১৩. আত্মতুষ্ট ও দম্ভে ভরা মানুষ আল্লাহর অপছন্দের পাত্র। (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৬)
১৪. যারা অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের ঘৃণা করেন। (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৭)
১৫. অহংকারী ও দাম্ভিকদের প্রতি আল্লাহর অনাসক্তি রয়েছে। (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৮)
১৬. উদ্ধত ও দম্ভভরে চলা মানুষ আল্লাহর রোষের শিকার হয়। (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২৩)